وَاقْصِدْ فِيْ مَشْيِكَ وَاغْضُضْ مِنْ صَوْتِكَ ۗ إِنَّ أَنْكَرَ الْأَصْوَاتِ لَصَوْتُ الْحَمِيْرِ


“ আর তুমি তোমার চলার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন কর এবং তোমার কণ্ঠস্বর নীচু করো; নিশ্চয় স্বরের মধ্যে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর। ”


(সূরা লুকমান :১৯)

এই আয়াতটি সূরা লুকমানের অংশ, যেখানে লুকমান (আ:) তাঁর পুত্রকে জীবনের মূল্যবান উপদেশ দেন। লুকমান (আ:) এর উপদেশগুলো শুধু বাহ্যিক আচরণ নয়, বরং অন্তরের নম্রতা এবং আল্লাহভীতির প্রকাশ। মানুষের জীবনযাত্রাকে মার্জিত ও সুন্দর করতে এই আয়াতে দুটি বিশেষ দিকের কথা বলা হয়েছে:

১. চলাফেরায় মধ্যপন্থা অবলম্বন
চলাফেরায় "মধ্যপন্থা" (ওয়াকসিদ ফী মাশ্যিকা) বলতে অতি দ্রুতগতি বা অত্যধিক ধীরগতি এড়ানো বোঝানো হয়েছে। খুব দ্রুত বা দম্ভভরে চলা যেমন দাম্ভিকতার লক্ষণ, তেমনি একদম মন্থর বা আলসেমি করে চলাও ব্যক্তিত্বহীনতা। একজন মুমিনের চলাফেরা হবে শান্ত, সংযত এবং মার্জিত। এটি আমাদের আত্মবিশ্বাস ও বিনয়ের প্রতিফলন ঘটায়।

২. কণ্ঠস্বর নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব
কণ্ঠস্বর নীচু করা (ওয়াগদুদ মিন সাওতিকা) বলতে প্রয়োজনের বাইরে উচ্চস্বরে কথা না বলা বোঝায়। উচ্চস্বরে চিৎকার করা অশোভন এবং অপ্রীতিকর, যেমন গাধার চীৎকার সবচেয়ে শ্রুতিকটু। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, গাধার চিৎকার শুনে শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে (বুখারী, মুসলিম)। এই উপদেশ মানুষকে শান্ত, সংযত কণ্ঠে কথা বলতে শেখায়, যা সম্মান বজায় রাখে এবং অন্যের প্রতি শিষ্টাচার প্রদর্শন করে।

আধুনিক এই ব্যস্ত সময়ে আমরা প্রায়ই ধৈর্য হারিয়ে উচ্চস্বরে কথা বলি কিংবা অস্থিরভাবে চলাফেরা করি। অথচ আজ থেকে হাজার বছর আগে হযরত লুকমান (আ.) তাঁর পুত্রকে যে উপদেশ দিয়েছিলেন, তা আজও সমানভাবে কার্যকর। অতএব আমাদের চলাফেরা হোক বিনম্র আর কথা হোক মোলায়েম। কারণ মানুষের বাহ্যিক আচরণই তার অন্তরের আভিজাত্যের পরিচয় দেয়।